আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি:

টানা ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মানবিক দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) বন্যা ও ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০টি পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি এলাকায় এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিজিবির সদস্যরা দুর্গম এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

১১ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ি ছড়া ও খাল উপচে পড়ায় অনেক এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দিনমজুর, নিম্ন আয়ের মানুষ ও হতদরিদ্র পরিবারগুলো কর্মহীন হয়ে খাদ্যসংকটে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)।

মানবিক কার্যক্রমের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০টি পরিবারের মধ্যে রান্না করা খাবার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দুর্যোগের এ কঠিন সময়ে বিজিবির সহযোগিতা তাদের অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে।

বিজিবি জানায়, সীমান্তবর্তী জনসাধারণের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাও তাদের দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের উদ্যোগ সীমান্ত এলাকায় সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা ও জনআস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন,
“দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও যে কোনো দুর্যোগ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও সংকটময় পরিস্থিতিতে বিজিবির মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বিজিবির এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করে বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিজিবি মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।